মার্চ ২৭, ২০২৬, ১১:০০ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক একটি ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর কমতে শুরু করে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে গতকাল বৃহস্পতিবার তেলের দাম যে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল শুক্রবারের এই দাম কমে যাওয়া সেই উল্লম্ফনকে কিছুটা শিথিল করেছে।
যদিও ইরান যুদ্ধ ধারণার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় এখনো জ্বালানি বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে তবে ট্রাম্পের এই নতুন বার্তা বিনিয়োগকারীদের সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে।শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম অন্তত ১ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেল ৯৩ দশমিক ০৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সংশ্লিষ্ট ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে হামলার সময়সীমা পরিবর্তন করার অর্থ হলো যুদ্ধের উত্তেজনা এখনই চূড়ান্ত পর্যায়ে যাচ্ছে না যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তেলের বৈশ্বিক চাহিদার ওপর।
তবে এই দরপতন সত্ত্বেও তেলের দাম এখনো যুদ্ধের আগের তুলনায় অনেক বেশি উঁচুতে অবস্থান করছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সামগ্রিকভাবে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দামেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে যা আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে যদিও আজকের দামে কিছুটা সংশোধন দেখা গেছে তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা দূর না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে যা আপাতত তেলের বাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন রোধ করতে সক্ষম হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন