মার্চ ২৭, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
সারাদেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন সামাল দিতে সব ধরনের যানবাহনের জন্য ডিজিটাল ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা এই বিশেষ কার্ড প্রবর্তনের লক্ষ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে এই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়বে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এই পরিস্থিতিতে তেলের অপচয় কমানো এবং অসাধু উপায়ে মজুত ঠেকানোই নতুন এই ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য।প্রস্তাবিত ফুয়েল কার্ড বা ফ্লিটকার্ড মূলত একটি আধুনিক পেমেন্ট কার্ডের মতো কাজ করবে।
প্রতিটি যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট কিউআর কোড সম্বলিত এই কার্ডের মাধ্যমে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস কিংবা ট্রাকের মালিকরা তাদের দৈনিক বা মাসিক চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নেওয়ার সময় এই কোড স্ক্যান করতে হবে, যার ফলে তেলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং একই ব্যক্তি যেন বারবার তেল নিয়ে কালোবাজারি করতে না পারে তা তদারকি করা সহজ হবে। যদিও এই পুরো প্রযুক্তিগত কাঠামোটি দেশজুড়ে পুরোপুরি কার্যকর করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে বলে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে।
ডিজিটাল এই পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রাহকরা যেমন সহজে তেলের দাম পরিশোধ করতে পারবেন, তেমনি প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে। এতে করে কোনো কোম্পানি বা পরিবহন মালিক সহজেই তাদের মাসিক জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এছাড়া কার্ডটি নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এর অপব্যবহার বা চুরির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যাবে। কাগজের রসিদ জমানোর পুরনো ঝামেলা এড়িয়ে গ্রাহকরা এককালীন ডিজিটাল চালানের সুবিধাও পাবেন। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই ‘ফুয়েল কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন