এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১০:০৭ এএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রেশ কাটতে শুরু করলেও দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট সহসাই কাটছে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় ৪০ দিনের এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। বিশ্ববাজারের এই ধাক্কা এখন সরাসরি বাংলাদেশের তেলের পাম্পগুলোতে দৃশ্যমান হচ্ছে।
রাজধানীর আগারগাঁও, শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তেলের জন্য পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো পেট্রোল বা অকটেন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং ২৫ শতাংশের বেশি এলএনজি এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমদানিকারক দেশগুলোতে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমানে অনেক পাম্পে শৃঙ্খলার স্বার্থে অ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তাদের কাছে তেলের মজুত থাকলেও সরবরাহের তুলনায় গ্রাহকের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সংকট সামাল দিতে সরকার প্রতি মাসে জ্বালানি তেলে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানি করে, তাদের জাহাজগুলো এখনো নৌপথে জটের মুখে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই তেলের সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক ড. আনিসুর রহমান অবশ্য কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সংঘাত বন্ধ হওয়ার ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রফতানিকারক দেশগুলো থেকে জাহাজগুলো জ্বালানি তেল নিয়ে আমদানিকারক দেশগুলোতে ফিরতে শুরু করবে।
যখন সরবরাহের পরিমাণ বাড়বে, তখন এই সংকট ধীরে ধীরে কেটে যাবে। তবে বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তার মতে, হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তিনি মনে করেন, অন্তত দুই থেকে চার সপ্তাহের আগে বাংলাদেশ এই জ্বালানি সংকট থেকে সম্পূর্ণ রেহাই পাবে না। আটকে থাকা জাহাজগুলো বন্দরে পৌঁছালে কেবল সাময়িক স্বস্তি ফিরতে পারে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাত পারস্য উপসাগর অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এবং পরিবহন চালকরা আশা করছেন, কূটনৈতিক ও কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে আপাতত সরকারি নির্দেশনা মেনে সীমিত পরিসরে এবং শৃঙ্খলার সাথে জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন