শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১০, ২০২৬, ১১:২৫ এএম

আবারও বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

উর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের বাজার

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও উর্ধ্বমুখী হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। শুক্রবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই তেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

আল জাজিরার সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী শুক্রবার ভোরে লেনদেন শুরুর সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। আগের দিনের তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ। 

একই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড তেলের দামও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যা ইরান নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের মতে ইরান জলপথে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া জাহাজ থেকে ফি আদায়ের চেষ্টার বিরুদ্ধেও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতার পেছনে সৌদি আরবের উৎপাদন হ্রাস পাওয়াকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে সাম্প্রতিক কিছু হামলার কারণে সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৬ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমে গেছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন আরও ৭ লাখ ব্যারেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এই বিশাল পরিমাণ সরবরাহ ঘাটতি বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগানের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে যুদ্ধবিরতির গুঞ্জন থাকলেও তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আসতে অনেক সময় লাগবে। বর্তমানে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয় সেই হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে আছে। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে জলপথ খুলে দেওয়া হয়েছে তবে সরবরাহ ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরে আসা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। যুদ্ধের কারণে অধিকাংশ তেলবাহী বড় ট্যাংকারগুলো বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উপকূল থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছে। এই বিশাল জাহাজগুলো ফিরে এসে পুনরায় তেল লোড করে গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে।

পাশাপাশি কারিগরি কিছু জটিলতাও এই সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করছে। দীর্ঘ সময় সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং স্থানীয় মজুতাগারগুলো পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ তাদের কূপগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। একটি তেলকূপ বা রিফাইনারি পুনরায় চালু করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ কাজ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি যা মেরামত করতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে রাজনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের অপেক্ষায় আছে বিশ্ব।