এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, এই সংকটের ফলে বর্তমানে পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা অন্তত ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন বিজিএমইএ নেতারা।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উপস্থিতিতে বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন।
উদ্যোক্তারা জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আবার বিকল্প হিসেবে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ বা শিপমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে না, যা দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
বিশেষ করে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে এই সংকট সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বিজিএমইএ নেতারা উল্লেখ করেন, জ্বালানি সংকটের কারণে কেবল উৎপাদনই কমছে না, বরং কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের বাড়তি খরচের কারণে সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে পোশাকশিল্পের উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। এর জবাবে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংকট সমাধানে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেন। তবে মে মাসের আগে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন