জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি লোহিত সাগর ও কাস্পিয়ান অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে।তেল সরবরাহের মূল নৌরুটগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতি নতুন ধাক্কার মুখোমুখি।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার (২৫ জুলাই) ইয়েমেনের হুথি সামরিক গোষ্ঠী সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার আরামকোর জিজান ও ইয়ানবু স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাতকরণে সক্ষম জিজান শোধনাগারে এই হামলায় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব পড়েছে। একই সাথে কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নৌ অবরোধের ফলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় প্রকার ক্রুড অয়েলের বাজারমূল্য বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইতিপূর্বে প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য ১০০ ডলার অতিক্রম করার পর মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মানদেব সংকুচিত হয়ে পড়ায় নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজার গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সংঘাতময় পরিস্থিতি বজায় থাকলে পরবর্তী মাসগুলোতে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি ব্যয়ের হার আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির এই সাম্প্রতিক প্রবণতা ইতোমধ্যে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার ও পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকেরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন