আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। সরবরাহ সংকট ও চাহিদা হ্রাসের এই দুই বিপরীতমুখী চাপের মধ্যে বাজারের গতিপথ বিশ্লেষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা।আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে লেনদেনের একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৬৬ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য এর আগের রাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছিল।এক ব্যারেলে সাধারণ হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৫৮ দশমিক ৯৮ লিটার অপরিশোধিত তেল থাকে।
এই হিসাবে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৬৬ ডলার দরে ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি লিটারের দাম দাঁড়ায় প্রায় শূন্য দশমিক ৫৫ ডলার। প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে প্রতি লিটার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৬৮ টাকা।তবে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে বাংলাদেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি হওয়া পেট্রল, অকটেন বা ডিজেলের দামের সরাসরি মিল নেই। অপরিশোধিত তেল আমদানির পর পরিশোধন, পরিবহন, কর-শুল্ক এবং বিপণনসহ নানা ব্যয় যুক্ত হয়। এসব খরচ বিবেচনায় নিয়েই দেশে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহনপথ বিঘ্নিত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।তবে এর বিপরীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধীরগতি এবং তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দাম কমানোর চাপ তৈরি করেছে। ফলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চাহিদার সম্ভাব্য পতনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন