রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে মধ্যরাতে বিক্ষোভ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১১:২৫ এএম

উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে মধ্যরাতে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা চুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগ বাতিলের দাবিতে এবং সাবেক ভিসিকে পুনর্বহালের দাবিতে শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আগমন ঠেকাতে গভীর রাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ও প্রশাসনিক এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও প্রধান প্রশাসনিক ভবন চত্বর প্রদক্ষিণ করেন। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে অধ্যাপক ড. সায়েমকে তাঁর পদে বহাল করার দাবি জানান।

মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‍‍`অনলাইন ভিসি মানব না‍‍` স্লোগানে পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত করে তোলেন এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রশাসনিক ভবনের দেয়ালসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিবাদী গ্রাফিতি অঙ্কন করেন। রোববার সকাল থেকে দিনব্যাপী অবস্থানসহ তিনটি পৃথক কর্মসূচি পালনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি। চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বদরুন মনির মহসিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন উপাচার্য নিয়োগের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তারা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবেন না এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত প্রতিদিন তাদের আন্দোলন নতুন মাত্রায় রূপ নেবে।

একই সাথে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন জানান, নতুন ভিসির অনলাইনের মাধ্যমে যোগদানের প্রতিবাদেই এই মধ্যরাতের বিক্ষোভ কর্মসূচি। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ইতিমধ্যে পূর্ণ কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে মেনে নেবেন না। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক যোগদানপত্র জমা দেন। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনের গতি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায় এবং শুক্রবার রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক ‍‍`কমপ্লিট শাটডাউন‍‍` কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপের সাথে একাত্মতা জানিয়ে পূর্ণ কর্মবিরতি শুরু করে চুয়েট শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আনুষ্ঠানিক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নতুন উপাচার্য।

অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম মন্তব্য করেন যে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাঁকে ক্যাম্পাসে স্বাগত জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হলেই তিনি দ্রুত সরাসরি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন আন্দোলনকারীরা।

এরপর দুপুর দেড়টায় ৫৬ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে প্রতীকী কর্মসূচি, দুপুর দুইটায় প্রতিবাদী পথনাট্য এবং ক্যাম্পাসে ৫৬ কর্নার স্থাপনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক উপাচার্যকে ঘিরে ক্যাম্পাসের নানা স্মৃতি সম্বলিত একটি বিশেষ প্রদর্শন বোর্ড স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা কুয়েটের একটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে ক্যাম্পাসে এই লাগাতার অস্থিরতা ও আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।