অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ০৩:৫৫ পিএম
তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান অভিযোগ করেছেন, সরকার বিদেশিদের পরামর্শে শ্রম আইন সংশোধন করছে। তিনি এ বিষয়ে আলোচনার জন্য গত চার মাস ধরে সময় চেয়েও প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘১০০ মিলিয়ন ডলারের স্টারলিংকের ভাইস চেয়ারম্যানকে তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) সময় দেন, অথচ ৪০ বিলিয়ন ডলারের (পোশাক খাতের) প্রতিনিধিকে সময় দেন না।’তিনি নতুন শ্রম আইনে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। নতুন প্রস্তাবে ন্যূনতম ২০ জন শ্রমিক নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা চাই না, ঝুট ব্যবসায়ী, মেস ব্যবসায়ীরা ট্রেড ইউনিয়ন করুক।’
তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন, ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) ও ওয়ার্কিং কমিটিতে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে শ্রমিকের সংখ্যা ধাপে ধাপে নির্ধারণের একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। সেখানে প্রথম ধাপে ৫০ থেকে ৫০০ শ্রমিকের কারখানায় ন্যূনতম ৫০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় একতরফাভাবে সেটি পরিবর্তন করে মাত্র ২০-৩০০ শ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ধাপ করা হয়েছে ৫টি।
বিজিএমইএ সভাপতি এই সিদ্ধান্তকে 'ভারসাম্যহীন', 'অযৌক্তিক' এবং 'বাস্তবতা বিবর্জিত' বলে অভিহিত করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘মাত্র ২০ জন শ্রমিক দিয়ে একটি ইউনিয়ন গঠন করা হলে কারখানাগুলোতে এমন ব্যক্তিরা ট্রেড ইউনিয়ন করবেন, যারা ঐ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। এটি কারখানাগুলোতে অন্তঃদ্বন্দ্ব ও শিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে এবং উৎপাদন ব্যাহত করবে।’ তার মতে, এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমবে এবং উদ্যোক্তারা নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনায় নিরুৎসাহিত হবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন