জুলাই ১৮, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
পরীক্ষার কেন্দ্রে কড়াকড়ি আরোপ করায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগ চাইছে শিক্ষার্থীদের একাংশ। তবে সাধারণ ছাত্রবিক্ষোভের আড়ালে বিগত সরকারের পতন হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নেপথ্যে রয়েছে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের বেশ কিছু অভিযোগ আপাতদৃষ্টিতে যৌক্তিক ছিল। ঝড়বৃষ্টির মধ্যে ভিজে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর কষ্ট এবং প্রশ্নপত্র কঠিন ও ভুল হওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে শুরুতেই ক্ষোভ তৈরি হয়। কিন্তু এই সাধারণ অভিযোগগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভিন্ন উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি বর্তমান সরকার পতনের স্লোগানও দেওয়া হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার মতো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এই বিক্ষোভের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
সেখানে নকল ধরায় এক পরীক্ষার্থীর খাতা বাজেয়াপ্ত করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন, কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে সরাসরি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিগত সরকারের আমলে তৈরি হওয়া ঢিলেঢালা পরীক্ষা পদ্ধতি ও সহজ সিলেবাসের কারণে শিক্ষার্থীরা এখন এই কঠোর নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর মতে, বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার একটি সুদূরপ্রসারী প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
অভিযোগের তীর মূলত ভিনদেশি প্রেসক্রিপশনের দিকে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিগত সরকারের সময়ে পাঠ্যক্রম থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সংক্ষিপ্ত জীবনী বাদ দেওয়া হয়েছিল। এর বিপরীতে বাংলা পাঠ্যপুস্তকে ভিনদেশি সংস্কৃতির বিভিন্ন অংশ ও প্রশংসাসূচক কবিতা অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় মূল শিক্ষার বদলে ডিম ভাজি বা ভাত রান্নার মতো বিষয়গুলোকে পাঠ্যক্রমে অস্বাভাবিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
শ্রেণিকক্ষে বিছানা গোছানো শেখানো নিয়ে সে সময় অভিভাবকরাও ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের মতো মূল বিষয়ের চেয়ে নাচ, গান এবং নাটককে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ায় শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকে। শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে অপ্রাসঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনা করে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদাও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে দাবি অনেকের।
বর্তমান সরকার এসব অসঙ্গতি দূর করে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে কাজ শুরু করেছে। নতুন নিয়মে মানিয়ে নেওয়ার এই ক্রান্তিলগ্নে শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিগত সরকারপন্থীরা ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন