রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বেরোবিতে গাছ কাটা নিয়ে বিতর্ক ও খতিবের নাম ব্যবহারের অভিযোগ

রাকিবুল হাসান মুন্না

মার্চ ১২, ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

বেরোবিতে গাছ কাটা নিয়ে বিতর্ক ও খতিবের নাম ব্যবহারের অভিযোগ

বেরোবিতে কাটা গাছের স্তূপ :ছবি-দিনাজপুর টিভি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মসজিদের খতিবের নাম ব্যবহার করে ভুয়া বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে গাছ কাটার টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অনিয়মের প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির নামে একটি বিবৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

সেখানে মসজিদের সামনে গাছ কাটার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়। তবে এ বিষয়ে মসজিদের খতিব ড. রকিব উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, ওই বিবৃতিটি তিনি দেননি। তিনি বলেন, বিবৃতিটি আমি দিইনি এবং আমার নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এটি দিয়েছে তা আমি জানি না। যদি আমি বিবৃতি দিতাম, তাহলে সেখানে আমার স্বাক্ষর থাকত। কিন্তু ওই বিবৃতিতে কোনো স্বাক্ষর নেই, শুধু আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

গাছ কাটার টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে প্রায় ১৮০টি গাছ কাটা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে গাছ কাটার ক্ষেত্রে বন বিভাগকে অবহিত করার নিয়ম থাকলেও প্রশাসন তা মানেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।শিক্ষার্থীদের দাবি, ১৮০টি গাছের প্রতিটির গড় মূল্য ৮০০ টাকা ধরলে মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। অথচ সেই টেন্ডার মাত্র ৫৫ হাজার টাকায় দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী অন্যের নামে টেন্ডার ড্রপ করে কাজটি নিয়েছেন এবং একই ব্যক্তির হাতের লেখায় তিনটি টেন্ডার কাগজ জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কর্মরত কেউ টেন্ডার নিতে পারেন না।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন গাছ কাটার ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে মনে করছেন অনেকে। এর প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ক্যাম্পাসে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েজ ও সচেতন শিক্ষার্থীরা। তারা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করবেন।

শিক্ষার্থী সবুর খান বলেন, যেখানে দেশে বৃক্ষরোপণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি চাই। আরেক শিক্ষার্থী মো. আরমান হোসেন একজন সম্মানিত খতিবের নাম ব্যবহার করে বিবৃতি দেওয়াকে ন্যাক্কারজনক বলে অভিহিত করেন। উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় ৩৬ হাজার গাছ রয়েছে এবং এটি বৃক্ষের জাদুঘর হিসেবে পরিচিত।