এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিনের গতানুগতিক ধারা ভেঙে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা যাচাইয়ে প্রশ্নের ধরনে বৈচিত্র্য আনার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল পাঠ্যবইমুখী করার লক্ষ্যেই এমন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এতে শিক্ষার্থীরা কেবল গাইড বা নোট বইয়ের ওপর নির্ভর না করে বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, ভর্তি পরীক্ষার প্রচলিত নম্বর বা মান বণ্টনে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
তবে প্রশ্নের ধরনটি হবে অনেক বেশি সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী। এর আগে শিক্ষার্থীরা কেবল বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান বা গাইড বইয়ের কিছু গতানুগতিক তথ্য মুখস্থ করে পরীক্ষায় অংশ নিত, যা প্রকৃত মেধা যাচাইয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই উপাচার্যের নির্দেশনায় প্রশ্নের ধরনে ক্রিয়েটিভিটিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন যথাযথভাবে পড়াশোনা করে তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই প্রচেষ্টা।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা যথারীতি এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে। সময় থাকবে এক ঘণ্টা এবং প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর বরাদ্দ থাকবে। তবে ভুল উত্তরের জন্য কোনো নম্বর কাটা হবে না।
বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় আলাদাভাবে প্রশ্ন করা হবে। এতে বাংলায় ২০, ইংরেজিতে ২০ এবং সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর থাকবে। বাকি ৪০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট শাখার বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের ওপর। পরীক্ষায় পাসের ন্যূনতম নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫।মেধাতালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের পাশাপাশি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ মূল্যায়ন করা হবে।
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার জিপিএ-র ওপর ৪০ নম্বর এবং এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ-র ওপর ৬০ নম্বরসহ মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের ৮৮১টি কলেজে স্নাতক সম্মান কোর্স চালু রয়েছে। এর মধ্যে ২৬৪টি সরকারি ও ৬১৭টি বেসরকারি কলেজ। বিগত শিক্ষাবর্ষে আসন সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ। প্রতি বছরের মতো এবারও মুক্তিযোদ্ধা, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী কোটার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন সংরক্ষিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুতই শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন