এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
দেশের মহানগর ও মেট্রোপলিটন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন এবং অফলাইন পদ্ধতিতে সমন্বিতভাবে ক্লাস শুরু করার নতুন এক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান ছুটির তালিকা থেকে একদিন ছুটি কমে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর দনিয়া কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর কিছু স্কুলকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী শনিবার থেকেই এই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, নতুন রুটিন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে হবে এবং বাকি তিন দিন অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল এডুকেশনের প্রতি আগ্রহী ও অভ্যস্ত করে তোলা। পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এটি কার্যকর করার কথা ভাবছে সরকার।নতুন রুটিন নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শনিবার শিক্ষার্থীদের সরাসরি স্কুলে উপস্থিত থেকে ক্লাস করতে হবে। এরপর রবিবার অনলাইনে ক্লাস হবে, সোমবার পুনরায় অফলাইনে বা সরাসরি স্কুলে যেতে হবে।
একইভাবে মঙ্গলবার অনলাইনে, বুধবার অফলাইনে এবং বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি আপাতত শুধুমাত্র মহানগর ও মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য প্রযোজ্য হবে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি, সেখানে শুরুতে এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে মন্ত্রী এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক নয়। সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না যা শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় কোনো বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সরকারের নেওয়া একগুচ্ছ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবার শিক্ষা খাতকেও এই বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা হচ্ছে। প্রচলিত রুটিনের পরিবর্তে অনলাইন শ্রেণি-কার্যক্রম চালু করার বিষয়টি নীতিনির্ধারক পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনলাইনে কোনো বিড়ম্বনা তৈরি হলে সেই শিক্ষার্থীদের অফলাইন ক্লাসে অতিরিক্ত সময় দিয়ে ক্ষতিপূরণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, যেসব স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব বাসের ব্যবস্থা করবে, সরকার তাদের জন্য শুল্কমুক্ত স্কুল বাসের সুবিধা প্রদান করবে।নির্ধারিত এই কার্যক্রমটি সফল করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী মনে করেন, এই পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে আরও নিবিড়ভাবে পরিচিত হতে পারবে।
বিশেষ করে বড় শহরগুলোর যানজট নিরসনেও এই পদ্ধতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার থেকেই পাইলট প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত স্কুলগুলোতে এই রুটিন অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন