সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,

ঢাবিতে ৭২ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

ঢাবিতে ৭২ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা

অনশন ভাঙছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ৭২ ঘণ্টা পর তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিশেষ অনুরোধে ডাবের পানি পান করে তারা এই অনশন ভাঙেন। 

অনশন ভাঙানোর সময় জুলাই আন্দোলনের শহীদ ফারহান ফাইয়াজ, সাইদুল ইসলাম, জাবের ও সৈকতের বাবাসহ অন্যান্য শহীদ পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।

অনশন ভাঙার পরপরই শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। 

গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম। পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগ দেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ। টানা তিন দিন অভুক্ত থাকায় তারা মারাত্মক শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হন।আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান তিনটি দাবির মধ্যে ছিল গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা। 

এছাড়া তারা জুলাই সনদে উল্লেখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ঘোষণারও দাবি জানিয়েছিলেন। সরকার বা বিরোধী দল থেকে কোনো দৃশ্যমান আশ্বাস না মেলায় গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা এই কঠোর কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন।অনশন চলাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যরা রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। 

সংহতি জানানো ব্যক্তিদের তালিকায় ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, কামাল হোসেন এবং নাজিবুর রহমান মোমেন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম এবং জিএস এস এম ফরহাদসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতারাও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

এর আগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান এবং তাদের হলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তখন তারা অনশন ভাঙতে রাজি হননি। অবশেষে শহীদদের অভিভাবকদের মানবিক আবেদনের প্রেক্ষিতে তারা দীর্ঘ এই অনশন কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানান যে শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে এবং রাজপথে তাদের সুস্থ থাকা নিশ্চিত করতেই এই অনুরোধ জানানো হয়েছে।