এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের যোগ্য কারিগর হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর হিসেবে কাজ করবে। তাই কেবল ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়, বরং মানসম্মত এবং গুণগত শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে তৈরি করতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান দশা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে এখনো কাঙ্ক্ষিত গুরুত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ বা বিল্ডিং তৈরির দিকেই কর্তৃপক্ষের জোর বেশি থাকে। অথচ মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্বায়নের এই কঠিন যুগে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ধাপে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যা কোনোভাবেই দেশের জন্য বোঝা নয়। যদি এই জনশক্তিকে সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা যায়, তবে এটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি।বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর বিশেষ জোর দেন এহসানুল হক মিলন। তিনি হাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষকে গবেষণার গুণগত মান বৃদ্ধি করার কড়া নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতটুকু অগ্রগতি হলো এবং গবেষণার ফলাফল কেমন, তার ভিত্তিতেই আগামী দিনে সরকারি বরাদ্দ নির্ধারিত হবে। হাবিপ্রবিতে বর্তমান সময়ে চাহিদাসম্পন্ন নার্সিং বিভাগ চালুর বড় সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশ্বজুড়ে এই খাতের ব্যাপক চাহিদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি এমন নতুন নতুন কারিগরি ও সেবামূলক বিভাগ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন যা সরাসরি দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পেছনে জনগণের বিনিয়োগের বিষয়টিও বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেন।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জানান যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একেকজন শিক্ষার্থীর পেছনে জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। তাই এই বিপুল রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের মর্যাদা রক্ষার্থে শিক্ষার্থীদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দেশপ্রেমের সাথে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। হাবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্ল্যার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া এবং দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও অনেক প্রবীণ রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধি।
হাবিপ্রবির এই ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে নবীনদের অভিনন্দন জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর ও রংপুরের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যগণ এবং দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম জাহাঙ্গীর কবির এবং রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের শিক্ষক ড. মো. ফারুক হাসান এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের ড. মো. মহিদুল হাসান। নবীনদের পদচারণায় আজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল এক প্রাণবন্ত উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন