মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ১০

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ১০

শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ‘কিসের সাংবাদিক’ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে সংঘবদ্ধভাবে চালানো এই হামলায় অন্তত ১০ জন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহবাগ থানার ঠিক সামনেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তজনা বিরাজ করছে।

আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন কালের কণ্ঠের রিপোর্টার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মনজুর হোসেন মাহী, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়াদিগন্তের হারুন ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান এবং ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন। 

এদের মধ্যে ঢাকা মেইলের রিপোর্টার ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। হামলার পরপরই তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, শাহবাগ এলাকায় চলমান একটি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের বাধা দেন। এ সময় সাংবাদিকরা নিজেদের পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মনজুর হোসেন মাহী জানান, তিনি সেখানে গিয়ে নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র সফি ওবায়দুল রহমান সামিথ তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। মাহীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো তোয়াক্কা না করে তারা সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা এই হামলায় জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম শনাক্ত করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু জ্বার গিফারী ইফাত, সদস্য সচিব মনসুর রাফি, শহীদুল্লাহ হলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের নেতা সাকিব বিশ্বাস ও সাজ্জাদ খান। এছাড়া সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, জিয়াউর রহমান হলের কারিব চৌধুরী, কবি জসিমউদ্দীন হলের মোহতাসিম বিল্লাহ হিমেল এবং শেখ মুজিবুর রহমান হলের হাসানসহ আরও অনেকে সরাসরি হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় ও ইমাম আল নাসের মিশুককেও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণাত্মকভাবে তেড়ে আসতে দেখা গেছে।আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাইজিং বিডির রিপোর্টার সৌরভ ইসলাম জানান, শফিকুর রহমান নামে এক কর্মীর দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় কিছু জুনিয়র নেতাকর্মী তাকে লক্ষ্য করে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে হামলা উসকে দেয়। 

এরপর তাকে জোর করে ভিড়ের মধ্যে টেনে নিয়ে মারধর করা হয়। অন্যান্য সাংবাদিকরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও চড়াও হয় ছাত্রদল কর্মীরা। ঘটনাস্থলে সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

হামলার এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে প্রকাশ্য দিবালোকে থানার সামনে এমন হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কর্মরত সাংবাদিকরা এই ঘটনার প্রতিবাদে বড় ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দিতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।