রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বেরোবিতে আবু সাঈদের স্মৃতিচিহ্ন নেই: ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

বেরোবি প্রতিনিধি

জুলাই ১১, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

বেরোবিতে আবু সাঈদের স্মৃতিচিহ্ন নেই: ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

ছবি: দিনাজপুর টিভি নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তার স্মৃতিবিজড়িত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সহযোদ্ধা ও শিক্ষার্থীরা।বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু কর্নারের স্থলে শহীদ আবু সাঈদ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। 

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর ফটকটি শহীদ আবু সাঈদ গেট নামে পরিচিত হলেও সেখানে একটি স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প ছাড়া দৃশ্যমান কোনো স্থাপনা নেই। ওই স্মারকে তথ্যগত অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা একসময় তা ঢেকে দিয়েছিলেন। একই স্থানে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই।

গত বছরের ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদ দিবস উপলক্ষে তার বাবা মকবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর ও স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প উদ্বোধন করেছিলেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উদ্বোধনের প্রায় এক বছর পার হলেও কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সম্প্রতি গেট নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা করা হলেও এরপর আর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

এদিকে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আগুনে পুড়ানো গাড়িগুলো সংরক্ষণের পরিবর্তে অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সেগুলো কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পিছনে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ওপর রাখা হয়েছে। সরকার পতনের পর শিক্ষার্থী ও আবু সাঈদের সহযোদ্ধারা এসব গাড়ি সংরক্ষণের জন্য জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি জানালেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শহীদ আবু সাঈদের নামে আবাসিক হল ও জাদুঘর নির্মাণের আলোচনা হলেও কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। তার ব্যবহৃত রক্তমাখা টি-শার্ট ও প্যান্টের মতো স্মারকগুলোও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক এস এম আশিকুর রহমান বলেন, প্রায় এক বছর আগে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন হলেও বাস্তব কাজ শুরু হয়নি। জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখতে স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আবু সাঈদ গেট ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের জন্য বাজেট পাওয়া গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। এছাড়া ছাত্রলীগের যেসব গাড়ি ক্যাম্পাসে রয়েছে, সেগুলো পুলিশের জিম্মায় রয়েছে বলে জানান তিনি।