জুন ১০, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে প্রায় তিন দশক পর তার মরদেহ কবর থেকে আবারও উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, আগেরবার মরদেহ উত্তোলনের পর পচন ধরায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করতে পারেননি চিকিৎসকরা।মরদেহ উত্তোলন প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে।
গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে মরদেহ উত্তোলনের আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘ ২৯ বছর ঝুলে থাকা এই মামলাটি বর্তমানে একটি নতুন মোড় নিয়েছে। গত ২০ অক্টোবর আদালত এটিকে অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।নতুন মামলায় অনেককে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে প্রথমবার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হলেও তা থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রথম ময়নাতদন্তে চিকিৎসকরা সেটিকে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু বলে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বার গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছিল, লাশে পচন ধরার কারণে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব নয়। বর্তমান তদন্তকারীরা আশা করছেন, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন করে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হলে এই দীর্ঘদিনের রহস্যের জট খুলবে।
এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানেও এই মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্য ও গুঞ্জন চলমান।নতুন এই আইনি প্রক্রিয়া জনমনে আবারও আলোচিত এই মৃত্যু নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। তদন্তের ফলাফলই বলতে পারবে সালমানের মৃত্যুর আসল কারণ কী ছিল।বিচার বিভাগ ও তদন্তকারী সংস্থা এখন গুরুত্বের সাথে কাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন