অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
ঢাকাই চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মান্না। তবে ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁর অভিনীত ‘ফায়ার’ সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্য থাকার অভিযোগ উঠলে সমালোচনার মুখে পড়েন এই চিত্রনায়কও। সিনেমাটি মুক্তির ২৪ বছর পর এবার সামনে এসেছে মান্নার একটি পুরোনো ভিডিও। এতে তিনি দাবি করেছেন, সিনেমাটির অর্ধেক কাজ করার পরই তিনি ‘ফায়ার’ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এবং এর ডাবিংয়েও অংশ নেননি।
মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলি সূত্রে পাওয়া ওই ভিডিওতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে দেখা যায় তাঁকে। মান্না বলেন, ফায়ার সিনেমায় অর্ধেক কাজ করার পর তিনি আর শুটিং করেননি। পরে সিনেমাটিতে নিজের কণ্ঠও দেননি।
ভিডিওতে মান্নার ভাষ্য ছিল, পুরো সিনেমায় অন্য শিল্পী, পরিচালক কিংবা প্রযোজক কী করেছেন, তা তাঁর পক্ষে সবসময় যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ়। অশ্লীল কোনো দৃশ্যে অভিনয় করেননি বলেও দাবি করেন এই অভিনেতা।
মান্নার স্ত্রী শেলী মান্নার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে ‘ফায়ার’ মুক্তি পেলেও সিনেমাটির পুরো কাজ শেষ করেননি মান্না। তাঁর দাবি, মান্না সরে যাওয়ার পর তাঁর পরিবর্তে ডামি ব্যবহার করে কিছু দৃশ্যের শুটিং করা হয়েছিল।
শেলী মান্না জানান, সিনেমাটি মুক্তির পর কিছু দৃশ্য নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে মান্নার সঙ্গে প্রযোজকের দ্বন্দ্বও তৈরি হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, মান্না বুঝতে পেরেছিলেন সিনেমায় এমন কিছু করা হচ্ছে, যা তাঁর অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ধারণা ছিল, তাঁকে ছাড়াই কিছু অপ্রাসঙ্গিক দৃশ্যের শুটিং করা হয়েছে। পাইরেসিসহ আরও কিছু বিষয় নিয়েও প্রযোজকের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
পুরোনো ভিডিওতে অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয়ের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন মান্না। চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদ করেছেন তিনি। পুরোনো ভিডিওতে মান্নাকে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে হতাশা ও ক্লান্তির কথাও বলতে শোনা যায়। তিনি বলেছিলেন, একার পক্ষে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লড়াই করা সম্ভব নয় এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁকে নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তৎকালীন চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিস্থিতি সম্পর্কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির এক নেতা জানান, সে সময় অনেক সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্য যুক্ত করা হতো। এর বিরোধিতা করতেন মান্না। কয়েকজন পরিচালক, ফাইট ডিরেক্টর ও কলাকুশলীকে নিয়ে অশ্লীলতামুক্ত সামাজিক সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি।
ওই নেতার দাবি, অশ্লীলতা নিয়ে আপত্তির পাশাপাশি ‘ফায়ার’ সিনেমার শিডিউল নিয়েও মান্নার জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এসব কারণেই তিনি সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়ান। ‘ফায়ার’ সিনেমাটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন মোহাম্মদ হোসেন। এতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন পলি। তবে মোহাম্মদ হোসেন দেশের বাইরে থাকায় সিনেমাটি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন