অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
ভারতের প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল পঁচাত্তর বছর। গোয়ায় নিজ বাসভবনে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে মালহার।
ভারতের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ নানা পাটেকর তার তীব্র অভিনয়শৈলী এবং স্বতন্ত্র সংলাপ বলার ভঙির জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন। তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন এবং জটিল ও শক্তিশালী চরিত্র রূপায়ণে দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি মারাঠি ভাষার চলচ্চিত্র ও নাট্যমঞ্চেও একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
গোয়ার নিজ বাড়িতে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মণিপাল হাসপাতালের ডা. শেখর স্যালকার সংবাদমাধ্যমকে জানান যে নিরবচল্লিশ মিনিট ধরে সি পি আর দেওয়ার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গোয়ার বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রবীণ এই অভিনেতার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর বহুমুখী অভিনয় প্রতিভা এবং স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে নানা পাটেকর এমন সব চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের মনে গেঁথে থাকবে। তার প্রয়াণে শিল্পজগতে এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারও নানা পাটেকরের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইতিপূর্বে কমেডি চলচ্চিত্র ওয়েলকাম-এ তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। অক্ষয় কুমার তাকে একজন দুর্লভ শিল্পী হিসেবে স্মরণ করেন, যার কণ্ঠস্বর, তীব্রতা ও সততা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত।
নানা পাটেকরের অভিনয় জীবনের শুরু ১৯৭৮ সালে গামান চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্রে ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন।
তার অভিনয় পরিবেশনার গভীরতা খুব দ্রুত সবার নজর কাড়ে। ১৯৮৯ সালে পরিন্দা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি সারা ভারতে পরিচিতি লাভ করেন। ওই চলচ্চিত্রে গ্যাংস্টার আন্না চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি তার প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।
এরপর নব্বইয়ের দশকে তিনি একের পর এক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করে গেছেন।
তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলোর বৈচিত্র্য তার অভিনয় দক্ষতার গভীরতা প্রমাণ করে। তিনি যে চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছিলেন, সেই প্রহার চলচ্চিত্রে মেজর চৌহান চরিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। এ ছাড়া তিরঙ্গা চলচ্চিত্রে দেশপ্রেমিক নায়ক এবং ক্রান্তিবীর চলচ্চিত্রে প্রতাপ নারায়ণ তিলক চরিত্রে তার অভিনয় দারুণ সাড়া ফেলে।
সমালোচকরা যখন ভেবেছিলেন জোরালো ও উচ্চকিত চরিত্রই তার মূল ধারা, তখন তিনি খামোশি চলচ্চিত্রে মূক ও বধির ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করে সবার ধারণা বদলে দেন।
মহারাষ্ট্রে ১৯৫১ সালে জন্ম নেওয়া নানা পাটেকর চলচ্চিত্রে আসার আগে নাট্যমঞ্চে কাজ শুরু করেছিলেন। নাট্যমঞ্চ থেকেই তিনি তার চরিত্রের সেই তীব্রতা ও নিজস্ব সংলাপ বলার ভঙি অর্জন করেছিলেন। পুরুষ এবং হামিদা বাই কি কোঠি তার বিখ্যাত দুটি নাটক। চলচ্চিত্রে সফল হওয়ার পরও তিনি আমৃত্যু নাট্যমঞ্চের সাথে যুক্ত ছিলেন।
পরিচালক প্রকাশ ঝার ২০১০ সালের রাজনীতি চলচ্চিত্রে একজন চতুর রাজনীতিবিদের চরিত্রে তার অভিনয় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সামাজিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন এবং কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা তার অত্যন্ত কাছের বিষয় ছিল। ২০১৫ সালে তিনি ও অভিনেতা মকরন্দ অনাদপুরে নাম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন, যা মহারাষ্ট্রে কৃষকদের কল্যাণ এবং পানি সংরক্ষণে কাজ করে আসছে।
তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে কিছু বিতর্কও যুক্ত ছিল।
২০১৮ সালে অভিনেতা তনুশ্রী দত্ত তাঁর বিরুদ্ধে দশক আগের একটি চলচ্চিত্র সেট সম্পর্কিত যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন, যা ভারতে মিটু আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছিল। নানা পাটেকর সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে পুলিশ পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন