এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে হামে নিশ্চিত এবং এর উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে দুজন হামের উপসর্গ নিয়ে এবং একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতর নিশ্চিত করেছে।
অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে প্রাণ হারানো এই তিন শিশুর সবাই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা।স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৩২ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
আক্রান্তদের মধ্যে ৫০৫ জনই ঢাকার। এই সময়ের মধ্যে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬৬ শিশু, যার মধ্যে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ৩১৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে ৭৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬১ জনই রাজধানী ঢাকার।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্র হিসেবে ঢাকা বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।হাসপাতালগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও গত এক দিনে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৬৮ শিশু। ছাড়পত্র পাওয়া শিশুদের মধ্যে বড় একটি অংশ ঢাকার, যার সংখ্যা ২০৫ জন। এছাড়া বরিশালে ২৯ জন, চট্টগ্রামে ৬৯ জন, খুলনায় ৯৪ জন এবং রাজশাহীতে ৪৮ জন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে। তবে সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে সুস্থ হওয়ার হার তুলনামূলক কম। এর আগে গত ১২ ও ১৩ এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়েও ৯ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৩২ শিশুর মৃত্যু হামের কারণে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৬৬ শিশু। দেড় মাসের এই সময়ে মোট ১৯ হাজার ১৬১ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ হাজার ৩১৮ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৭৩ জন শিশুর শরীরে হামের অস্তিত্ব ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, দীর্ঘমেয়াদী এই সংক্রমণ কাটিয়ে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৭৭২ শিশু সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন