নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ১০:২৭ এএম
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্যানোরামা তথ্যচিত্রে তার বক্তব্য ভুলভাবে সম্পাদনা করার অভিযোগে তিনি আগামী সপ্তাহেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে বিবিসির বিরুদ্ধে এক থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অংকের মানহানির মামলা করতে যাচ্ছে তার আইনি দল।
মূলত ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ঘটনা নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রে ট্রাম্পের বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল যেন তিনি সরাসরি সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছেন।
বিবিসি অবশ্য ইতিমধ্যে স্বীকার করেছে যে তাদের সম্পাদনার কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল এবং এজন্য তারা দুঃখও প্রকাশ করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরণের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে সাফ অস্বীকৃতি জানিয়েছে যা ট্রাম্পকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।এই বিতর্কের জেরে ইতিমধ্যেই বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি ও বার্তা প্রধান ডেবোরাহ টারনেস পদত্যাগ করেছেন যা সংবাদমাধ্যমটির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন বিবিসি প্রতারণা করেছে এবং তার মুখ থেকে বের হওয়া কথাগুলো বদলে দিয়েছে।
তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে বিষয়টি এখনো না তুললেও চলতি সপ্তাহেই তাকে ফোন করার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা বিবিসিকে জবাব দেওয়ার জন্য শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন কিন্তু কোনো সুরাহা না হওয়ায় এখন বিষয়টি আদালতে গড়াতে যাচ্ছে। যদিও আদালতের উন্মুক্ত ডাটাবেস পর্যালোচনা করে এখনো কোনো মামলার নথিপত্র পাওয়া যায়নি তবে ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও ফ্লোরিডা রাজ্য আদালতে এই মামলা দায়ের হতে পারে।
বিবিসির আইনজীবীরা অবশ্য ট্রাম্পের লিগ্যাল টিমের চিঠির জবাবে পাঁচটি যুক্তি তুলে ধরেছেন কেন এই মামলার আইনগত ভিত্তি নেই। তারা বলছেন তথ্যচিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রচার হয়নি এবং এটি শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যের দর্শকদের জন্য আইপ্লেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল। এছাড়া ট্রাম্প যেহেতু পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন তাই এই তথ্যচিত্র তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কোনো ক্ষতি করেনি বলেও দাবি করছে বিবিসি।
তাদের মতে ১২ সেকেন্ডের ওই ক্লিপটি কাউকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে নয় বরং সময়ের প্রয়োজনে সংক্ষেপ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মানহানি আইনে রাজনৈতিক বক্তব্যের বিষয়ে মতামত দেওয়ার বিষয়টি সুরক্ষিত থাকায় বিবিসি আইনি লড়াইয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে মনে করছে তাদের লিগ্যাল টিম। তবে ট্রাম্প ছাড় দেওয়ার পাত্র নন এবং তিনি মনে করেন তাকে এই পদক্ষেপ নিতেই হবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন