সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দাম কমেছে বলছেন ট্রাম্প, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয়ে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ১০:৩০ এএম

দাম কমেছে বলছেন ট্রাম্প, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয়ে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়লেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৃতিত্ব দাবি করছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন দামকে ‘স্বাভাবিক’ মাত্রায় নামিয়ে এনেছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ম্যাকডোনাল্ডসের ওই সমাবেশে তিনি বলেন, "আমরা দাম বেশ নিচে নামিয়েছি। আরও কমাব। আমরা নিখুঁত অবস্থা চাই।"ট্রাম্প ২০২৪ সালের আগের ডেমোক্র্যাটদের অর্থনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি দাবি করেন, সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সম্পূর্ণ অগোছালো ছিল এবং আমেরিকানরা ভাগ্যবান যে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে, প্রেসিডেন্টের এই দাবির সাথে একমত নয় দেশটির অধিকাংশ মানুষ।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরছে।এনবিসি নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ৬৩ শতাংশ মানুষ সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনায় তার পারফরম্যান্সে হতাশ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যের উপনির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনেও এই মূল্য সংকট ও অর্থনৈতিক অসন্তোষই প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

জনগণের চাপের মুখে মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায় ২০০ ধরনের খাদ্যপণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর একটি নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন। এই তালিকায় গরুর মাংস, কলা, কফি এবং কমলার রসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রয়েছে। এছাড়া তিনি শুল্ক আয় থেকে আমেরিকানদের ২ হাজার ডলারের রিবেট চেক দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন। বাড়তি চাপ সামলাতে ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী মর্টগেজ চালুর কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বাইডেন প্রশাসনের সময় দেশটির মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবে এটি এখনও ফেডারেল রিজার্ভের কাঙ্ক্ষিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরেই রয়েছে। অক্টোবরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।ম্যাকডোনাল্ডসের প্রতি নিজের বিশেষ অনুরাগের কথা ট্রাম্প প্রায়ই উল্লেখ করেন। ওই সমাবেশে তিনি এই ফাস্টফুড চেইনকে তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেন। কম দামে ‘এক্সট্রা ভ্যালু মিল’ ফিরিয়ে আনায় তিনি কোম্পানিটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "আমরা যখন দেশের দাম কমানোর জন্য লড়ছি, তখন ম্যাকডোনাল্ডস আমাদের সেরা সহযোগী।"