রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন: নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ১২:১৭ পিএম

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন: নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে

গাজায় গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা ধারণার তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা 'জাইট'।

পত্রিকাটির গতকাল সোমবারের (২৪ নভেম্বর) প্রতিবেদনে জার্মানির খ্যাতনামা ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকদের হিসাবের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, গাজায় এ পর্যন্ত অন্তত এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বা মারা গেছেন।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে নিহতের সংখ্যা ৯৯ হাজার ৯৯৭ থেকে শুরু করে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৫ জন পর্যন্ত হতে পারে।

গবেষণা প্রকল্পের ইরেনা চেন মন্তব্য করেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা হয়তো কখনোই পুরোপুরি জানা সম্ভব হবে না, তবে তারা সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পরিসরটি নির্ণয়ের চেষ্টা করছেন। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের গবেষকরা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের পাশাপাশি স্বতন্ত্র জরিপ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে পরিসংখ্যানগত প্রক্ষেপণ করেছেন।এ পর্যন্ত মৃত্যুর সরকারি হিসাব শুধু গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই প্রকাশ করেছে, যেখানে যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে মৃত্যুর সংখ্যা দেখানো হয় ৬৭ হাজার ১৭৩। তবে 'জাইট' পত্রিকা বলছে, এই সংখ্যায় কারচুপির কোনো প্রমাণ নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাধারণত হাসপাতালের মৃত্যু সনদনির্ভর নিশ্চিত মৃত্যুকেই গণনা করে থাকে। যুদ্ধের কারণে হাসপাতালগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারায় এবং ধসে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মারা যাওয়া বহু মানুষ তালিকাভুক্ত হতে পারেনি।গবেষক দলটি এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক বিস্তারিত মৃত্যুহারও হিসাব করেছে।

তাদের হিসাবে দেখা যায়, নিহতদের প্রায় ২৭ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ নারী। গবেষকরা গাজার সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাবের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। তাদের হিসাব বলছে, যুদ্ধের আগে নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৭ বছর এবং পুরুষদের ৭৪ বছর। কিন্তু ২০২৪ সালে এই গড় আয়ু নারীদের ক্ষেত্রে ৪৬ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৬ বছরে নেমে আসতে পারে। গবেষণাটি গাজার সাধারণ মানুষের জীবনে এই যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।