ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ০৬:০২ পিএম
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি বারবার জানিয়েছেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি নিউইয়র্কে প্রবেশ করেন, তবে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন। মামদানির এই দাবির মূল যুক্তি হলো।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
আইসিসি অভিযোগে উল্লেখ করেছে যে, নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ক্ষুধা ব্যবহার এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর ক্ষেত্রে জড়িত। যদিও নেতানিয়াহু নিজে নিউইয়র্ক সফরের ঘোষণা দিয়েছেন এবং আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে মামদানির মন্তব্যকে উপেক্ষা করেছেন।
আইসিসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অবস্থান কিছুটা জটিল। উভয় দেশই ‘রোম স্ট্যাটিউট’-এর সদস্য নয়, ফলে আইসিসি সরাসরি তাদের নাগরিকদের ওপর বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না। তবে ফিলিস্তিনের যোগদানের পর আদালত প্রাক-বিচারিক চেম্বারের মাধ্যমে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের ওপর বিচারিক ক্ষমতা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। আইসিসি নিজস্ব কোনো গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়া চালাতে পারে না এবং এর জন্য সদস্য রাষ্ট্রদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তবে আন্তর্জাতিক আইন ‘সর্বজনীন বিচারিক ক্ষমতা’ নীতি প্রদান করে, যার আওতায় যেকোনো রাষ্ট্র গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার ভৌগোলিক অবস্থান বা জাতীয়তা নির্বিশেষে গ্রেপ্তার করতে পারে। এই নীতির ভিত্তিতে সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন প্রভৃতি দেশ ইতোমধ্যেই উচ্চপদস্থ বিদেশি কর্মকর্তাদের বিচার করেছে। ইসরাইলের ইতিহাসেও এই নীতি প্রয়োগের নজির রয়েছে, যেমন অ্যাডলফ ইচম্যানকে আর্জেন্টিনার বাইরে থেকে অপহরণ করে ইসরাইল বিচার করেছিল।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান তাকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দায়মুক্ত করতে পারবে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ‘সর্বজনীন বিচারিক ক্ষমতা’ প্রয়োগে ফেডারেল অনুমোদনের প্রয়োজন থাকতে পারে, তবুও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিবর্তনীয়। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করা এবং দায়মুক্তির অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন