জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
ইরানে চলমান নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান যে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
ট্রাম্পের মতে ইরানে যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে তা ওয়াশিংটন আর নীরবে দেখবে না। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপের মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তার সামরিক হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব আলোচনার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে এবং ইতিমধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন চলছে।
তবে তিনি এও যোগ করেছেন যে কোনো চূড়ান্ত আলোচনার আগেই পরিস্থিতির প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ চলছে। গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন পর্যন্ত এতে অন্তত ১০৯ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে তেহরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন যে যদি ইরানের ওপর কোনো ধরণের হামলা চালানো হয় তবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। কালিবাফের মতে যুক্তরাষ্ট্র যেন কোনো ধরণের 'ভুল হিসাব-নিকাশ' না করে কারণ ইরান তাদের ভূখণ্ড রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন ট্রাম্পের এই বার্তা ইরান সরকারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে তবে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর মতে পেন্টাগন ইতিমধ্যে তেহরানের ওপর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য একাধিক পরিকল্পনার খসড়া ট্রাম্পের কাছে পেশ করেছে।
ইরানে চলমান ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট বা ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সাথে দেখছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্প ও ইরানি নেতৃত্বের সম্ভাব্য বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয় কি না অথবা তার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে কি না তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন