বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
বিমানে বজ্রপাত

মাঝ আকাশে বিমানে বজ্রপাত ১৭ হাজার ফুটে অল্পের জন্য রক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১১:৩০ এএম

মাঝ আকাশে বিমানে বজ্রপাত ১৭ হাজার ফুটে অল্পের জন্য রক্ষা

প্রতীকী ছবি

মাঝ আকাশে বিমানে বজ্রপাত আঘাত হানার পর চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ফ্লাইটে। ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় ওড়ার সময় শক্তিশালী এই বজ্রাঘাতে বিমানটির সামনের অংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়িয়ে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনৌতে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে উড়োজাহাজটি। এতে থাকা ১০৪ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু সদস্যসহ মোট ১১০ জন আরোহী অক্ষত রয়েছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে উত্তরপ্রদেশের লখনৌ যাওয়ার পথে ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই বিমানটির উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত বা গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন বা ডিজিসিএ ইতিমধ্যে ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটির কারিগরি ছাড়পত্র পাওয়ার পরই বিমানটিকে পুনরায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

মাঝ আকাশে চরম বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল ফ্লাইটটি।

ইন্ডিগোর এক মুখপাত্র জানান, পাটনা থেকে লখনৌগামী ইন্ডিগোর ৬ই ৬২৫ ফ্লাইটটি মাঝপথে হঠাৎ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে। অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে শিলাবৃষ্টি ও তীব্র ঝোড়ো বাতাসের কারণে বিমানের নাকের অংশে থাকা রেডোম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আট মিনিট আগেই লখনৌর চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি নিরাপদে স্পর্শ করে। যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

অবতরণের আগে চালক বা ক্রুরা ক্ষতির সঠিক মাত্রা বুঝতেই পারেননি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আকাশে ওড়ার সময় বজ্রপাতের তীব্রতা বুঝতে পেরে পাইলট দ্রুত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আঘাতের কারণে উড়োজাহাজের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তারা নিশ্চিত ছিলেন না। সাধারণত বিমানের নাকের ভেতরেই মূল আবহাওয়া রেডার স্থাপন করা থাকে। রানওয়েতে নামার পর কর্মীরা দেখতে পান যে বজ্রাঘাতে সামনের সেই অংশটিই দুমড়েমুচড়ে গেছে।

এর আগেও বৈরী আবহাওয়ায় ইন্ডিগোর বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।

গত মাসে গুয়াহাটি থেকে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে পরিচালিত এ৩২১নিও মডেলের আরেকটি বিমান কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় প্রচণ্ড ঝড়ে রানওয়ের সাথে অস্বাভাবিকভাবে লেজ আছড়ে পড়েছিল। সেই ঘটনায়ও বিমানটির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছিল এবং সেটিকেও তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাউন্ডেড করতে হয়েছিল কর্তৃপক্ষকে।