বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন দেশের ৬২ লাখ প্রবীণ

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন দেশের ৬২ লাখ প্রবীণ

ছবি: Ai

বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ৬২ লাখ নারী-পুরুষকে নিয়মিত অর্থ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি এবার ভাতার পরিমাণও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো অনেক যোগ্য প্রবীণকে এই সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। সচিব জানান, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য শতভাগ নাগরিককে এই সুরক্ষা বেষ্টনীতে যুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।

কর্মসূচির বিস্তার তুলে ধরে তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিধি প্রতি বছরই ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে। শুরুতে ৬০ লাখ প্রবীণকে এই সুবিধা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা ৬১ লাখে উন্নীত করা হয়। আর চলতি বছর নতুন করে আরও ১ লাখ প্রবীণকে অন্তর্ভুক্ত করায় মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা এখন ৬২ লাখে পৌঁছেছে।

ভাতার যোগ্যতা সম্পর্কে সচিব জানান, নারীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর বা তার বেশি হলে তারা বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন।

কিন্তু বয়সসীমা পূরণ করলেই সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ভাতার আওতায় চলে আসেন না।

এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও আর্থিক মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হয়। ফলে উপযুক্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে তালিকাভুক্ত করা যাচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ের কাছে বর্তমানে এমন বেশ কিছু আবেদন জমা রয়েছে, যা আর্থিক বরাদ্দের কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রবীণদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার অর্থ সমাজ থেকে প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়া নয়। তাদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতাকে নবীন প্রজন্মের স্বার্থে কাজে লাগানোর পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় প্রবীণদের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে এবং পরিবারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আত্মমর্যাদা বজায় রাখতে এই আর্থিক সহায়তা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

গড় আয়ু বাড়ার কারণে দেশের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন প্রবীণ। এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে সরকার ভাতা প্রদানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন ও গণপরিবহনে যাতায়াত সুবিধাসহ একটি সমন্বিত প্রবীণবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।

যাতায়াত সুবিধার বিষয়ে সচিব জানান, রেল ও মেট্রোরেলসহ দেশের সার্বিক গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রবীণ নাগরিকদের চলাচলে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রেলওয়ে ও মেট্রোরেলে প্রবীণদের জন্য ২৫ শতাংশ বিশেষ ভাড়ায় ভ্রমণের ব্যবস্থা বহাল রয়েছে।

তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে প্রবীণ কল্যাণে শুধু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পারিবারিক কাঠামোতে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান ও সেবার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। যেসকল প্রবীণ শারীরিকভাবে সক্ষম, তাদের অভিজ্ঞতাকে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করার পরিবেশ তৈরি করা গেলে সমাজ উপকৃত হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সচিব বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক করতে উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত দুস্থ ব্যক্তিদের কাছে রাষ্ট্রীয় অর্থ সঠিকভাবে পৌঁছায়।

বাজেট সক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং মাথাপিছু ভাতার পরিমাণ উভয়ই পর্যায়ক্রমে আরও বৃদ্ধি করা হবে।