বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
পূজার আমেজ

মধুমিতা সরকারের পূজার আনন্দ কলকাতায় ভক্তদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মণ্ডপে

বিনোদন ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

মধুমিতা সরকারের পূজার আনন্দ কলকাতায় ভক্তদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মণ্ডপে

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার ব্যস্ত রাজপথে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়া কিংবা মণ্ডপের উপচে পড়া ভিড়ে মিশে গিয়ে প্রতিমা দর্শন করা যেকোনো তারকার জন্যই বেশ কঠিন এক স্বপ্ন। প্রবল জনপ্রিয়তার কারণে সাধারণ পথচারীদের মতো ইচ্ছা হলেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো তাদের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।

তবে এই চেনা ছকের চেয়ে একেবারেই আলাদা কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার।

তারকার চাদর সরিয়ে বন্ধুদের হাত ধরে কলকাতার অলিগলিতে হেঁটে দুর্গাপূজার খাঁটি আনন্দ উপভোগ করতেই তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

চলতি বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব মধুমিতার জীবনে একটু ভিন্ন আবহ নিয়ে এসেছে। কারণ বিয়ের পিঁড়িতে বসার পর এটিই তার জীবনের প্রথম পূজা। তবে নতুন সংসারে স্বামীর সাথে পরিপাটি সাজে মণ্ডপে ঘোরার চেয়ে শৈশবের বন্ধুদের নিয়ে পথে নেমে প্রতিমা দর্শনেই তিনি বেশি আনন্দ খুঁজে পান।

রাস্তায় নামলে পরিচিত মুখ দেখে ভক্তরা ঘিরে ধরার স্বাভাবিক ঝুঁকি তো থাকেই। তবে ভিড়ের ভেতর নিজের তারকা সত্তা পুরোপুরি আড়াল করার এক বিশেষ কৌশল নিজের আয়ত্তে এনেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের সেই ব্যতিক্রমী কৌশলের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।

চোখাচোখি না হওয়াই তার মূল ভরসা।

নিজের কৌশল ব্যাখ্যা করে মধুমিতা জানান, তিনি মানুষের ভিড়ের মধ্যে খুব সহজে নিজেকে মিশিয়ে নিতে পারেন। চলার সময় তিনি সাধারণ মানুষের চোখের দিকে তাকান না, বরং দৃষ্টি মাটির দিকে স্থির রেখে দ্রুত পায়ে হেঁটে এগিয়ে যান। মণ্ডপে ঢুকে চোখের পলকে প্রতিমা দেখেই আবার দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন তিনি। তার মতে, পূজার দিনগুলোতে চারপাশের সবাই নিজেদের আনন্দ আর ছবি তোলায় এত বেশি মশগুল থাকে যে হঠাৎ করে অন্য কারও দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার সময় পায় না।

সবসময় অবশ্য এই কৌশল পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না। মাঝে মাঝে বন্ধুদের কাণ্ডকারখানায় বেশ মজার এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয় তাকে।

এমনই এক স্মৃতিচারণা করে অভিনেত্রী জানান, অনেক সময় দূরবর্তী কোনো এলাকায় গাড়ি রেখে তারা সবাই অনেকটা পথ পায়ে হেঁটে চলে যান। এরপর গাড়ি রাখা জায়গায় ফিরতে তারা সাধারণ গণপরিবহন বা বাসে উঠে পড়েন। পুরো পথ বন্ধুরা সম্পূর্ণ চুপচাপ থাকে এবং কোনো আচরণেই বুঝতে দেয় না যে সাথে কে বসে আছে। কিন্তু ঠিক যখন বাস থেকে নামার মুহূর্ত আসে, তখনই কোনো এক বন্ধু হঠাৎ জোরে চেঁচিয়ে ওঠে, ওটা পাখি না! বাসের অন্যান্য সাধারণ যাত্রী কিছু বুঝে ওঠার আগেই বন্ধুরা তার হাত টেনে ধরে দ্রুত বাস থেকে নেমে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

তারকার আভিজাত্য দূরে সরিয়ে সাধারণ আটপৌরে মানুষের মতো পূজার এই রোমাঞ্চই মধুমিতার কাছে সবচেয়ে উপভোগ্য। তাই তো স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তিনি মনে করেন, এমন মজার পাগলামি আর বন্ধুদের খুনসুটি না থাকলে পূজার কোনো আনন্দই থাকে না।