অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
নোবেল শান্তি পুরস্কার নিজেরই পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নরওয়ের নোবেল কমিটি তাকে এই পুরস্কার দেবে কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। ইরানের সাথে তীব্র সংঘাত ও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর চুক্তি করতে না পারার সমালোচনার মধ্যেই এমন দাবি করলেন তিনি।
বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ২০২৬ সালের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার কার হাতে উঠছে সে বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। আগামী শুক্রবার নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবে তা আমি জানি না। তবে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, আমার মতো মানুষকে তারা হয়তো এই পুরস্কার দিতে চায় না।
গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে দাবি করছেন যে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার তার প্রাপ্য।
তার দাবি, বিশ্বমঞ্চে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এখন তার হাতে এই সম্মাননা ওঠার উপযুক্ত সময় এসেছে। গতবারের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আগেরবারও তিনি পরোক্ষভাবে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলেন। সে সময় পুরস্কারজয়ী ব্যক্তি নিজে মন্তব্য করেছিলেন যে ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি যোগ্য আর কেউ এই পুরস্কারের জন্য ছিলেন না।
ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। মূলত গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় নিজের রাজনৈতিক আন্দোলনের পক্ষে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে তিনি এই পদক তুলে দেন।
দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর বৈশ্বিক অঙ্গনে অন্তত আটটি ভিন্ন সংঘাতে কার্যকর হস্তক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার যুক্তি, এই মধ্যস্থতা ও পদক্ষেপগুলোর কারণেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য তাকে বিবেচনা করা উচিত।
কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের মতো কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতারা তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেন। তবে এসব প্রস্তাবনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার কোনো আনুষ্ঠানিক সুযোগ নেই।
যেসব আঞ্চলিক সংঘাত সমাধানের দাবি ট্রাম্প করে আসছেন, সেগুলোর বেশ কয়েকটি পক্ষ তার কথিত কূটনৈতিক সাফল্য নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলোতে মধ্যস্থতার দাবির পরও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানেরও এখনো কোনো মীমাংসা করতে পারেননি ট্রাম্প। অথচ নির্বাচনী প্রচারণার সময় ও দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার কারণে সাত মাস ধরে চলা সামরিক উত্তেজনা গভীর আকার ধারণ করেছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় সংকট তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে জ্বালানির এই সংকট যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করছে।
নরওয়ের নোবেল কমিটির বিবেচনায় এ বছর শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন