বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
ভারতের রাজনীতি

দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের বড় বিক্ষোভ নামছেন মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১০:১৭ এএম

দিল্লিতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের বড় বিক্ষোভ নামছেন মমতা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফের বড় ধরনের বিক্ষোভে নামছে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিরোধী জোটের ডাকা এই কর্মসূচিতে ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর আগের দিন বুধবার (৭ অক্টোবর) একই দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী শিবিরের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে সাময়িকভাবে আটক করেছিল পুলিশ। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও বিস্তৃত পরিসরে রাজপথে নামার ডাক দিয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স বা ইন্ডিয়া জোট।

বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকের পর থেকেই এই সমন্বিত আন্দোলনের সূচনা হয়।

সংসদ সদস্যদের যন্তর মন্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ বাসের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। বিভিন্ন বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে মিছিল নিয়ে বাসগুলো এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে সংসদ ভবনের অদূরে দিল্লির অশোক রোডে শাংরি-লা হোটেলের সামনেই ব্যারিকেড দিয়ে গাড়িগুলো আটকে দেয় পুলিশ। নির্ধারিত কর্মসূচি স্থল যন্তর মন্তর থেকে স্থানটি ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে।

পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় দিল্লির রাজপথে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে বাধা পেয়ে বিরোধী দলীয় নেতারা রাস্তার ওপর বসেই তাৎক্ষণিক অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বুধবারের বাধাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

রাতে বিরোধী দলগুলোর যৌথ আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে বৃহস্পতিবার আরও বেশি সংখ্যক সংসদ সদস্য রাজপথে নামবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি এই প্রতিবাদে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

বিরোধীদের মূল ক্ষোভ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে। তাদের দাবি, বর্তমান কমিশন নিজের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছে বিরোধী শিবির। বিশেষ করে ভারতের বিহার রাজ্যের ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের উদ্বেগকে বিন্দুমাত্র আমলে না নেওয়ায় সাংবিধানিক এই শীর্ষ কর্মকর্তার অপসারণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট।