বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরান ত্যাগে নাগরিকদের জরুরি নির্দেশ দিল ফ্রান্স-কানাডা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

ইরান ত্যাগে নাগরিকদের জরুরি নির্দেশ দিল ফ্রান্স-কানাডা

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ফ্রান্স ও কানাডা। দুই দেশের পক্ষ থেকেই আলাদা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে বর্তমানে ইরানে অবস্থান করা বিদেশিদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও যেকোনো সময় বিনা কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এই জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

 পশ্চিমা দেশগুলোর এমন পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো কানাডা সরকার তাদের নাগরিকদের জন্য প্রকাশিত সতর্কবার্তায় স্পষ্ট করে বলেছে যে ইরানে বর্তমানে বিক্ষোভ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

 যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি থাকায় নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে কানাডা স্বীকার করেছে যে ইরানে তাদের কনস্যুলার সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত। 

ফলে সেখানে কোনো নাগরিক বিপদে পড়লে দ্রুত সহায়তা প্রদান করা তাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।একই সুরে কথা বলেছে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফরাসি নাগরিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার ফলে ইরানের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিবেশে বিদেশিদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে যা প্রাণহানি বা কারাবরণের কারণ হতে পারে। ফরাসি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং চলমান কোনো বিক্ষোভ বা জনসমাবেশের কাছাকাছি না যেতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এই পরিস্থিতিতে ঘি ঢেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প তার বার্তায় আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে বাইরে থেকে সহায়তা আসছে। তবে ইরান সরকার প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে যে দেশের এই অরাজক পরিস্থিতির পেছনে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উস্কানি রয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিক্ষোভ শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিদেশি মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কারণে তা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে ইরান এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।