জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১০:০৬ এএম
বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের (ডিপেনডেন্ট) স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বর্তমানে ঢাকাকে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে ঘোষণা করেছে নয়াদিল্লি।
তবে পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হলেও ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটের চারটি সহকারী হাইকমিশন যথারীতি খোলা থাকবে এবং সেখানে নিয়মিত কূটনৈতিক কার্যক্রম ও কনস্যুলার সেবা অব্যাহত থাকবে।
জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ এবং ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রক্রিয়ধীন ছিল। বাংলাদেশে।
সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার পর চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনে বিক্ষোভ ও অস্থিরতার ঘটনা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রেখেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি একটি সাময়িক ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য হলো প্রতিকূল পরিবেশে কর্মকর্তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের এমন পদক্ষেপকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণত চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বড় ধরণের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে ভারত তার বিদেশি মিশনগুলোকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে। বর্তমানে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও ভারতের একই ধরণের কঠোর নীতি কার্যকর রয়েছে।
ভারতের এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরণের শীতলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বাংলাদেশ সরকার অবশ্য ভারতের এই উদ্বেগকে গুরুত্বের সাথে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে বিদেশি কূটনীতিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
অন্যদিকে, ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে কর্মকর্তাদের ভারত থেকে একা এসে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক কার্যক্রম পূর্ণ শক্তি দিয়ে সচল রাখার মাধ্যমে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা বাংলাদেশের সাথে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন করতে চায় না, কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন