রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন র‍্যাপার বালেন শাহ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৯, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন র‍্যাপার বালেন শাহ?

নেপালের রাজনীতিতে বালেন শাহ

নেপালের জাতীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। সংগীতের মঞ্চ থেকে উঠে আসা জনপ্রিয় র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ, যিনি বালেন শাহ নামেই সমধিক পরিচিত, দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত নেপালের জাতীয় নির্বাচনের ভোট গণনা এখনো চলছে। 

তবে প্রাথমিক ফলাফল ও প্রবণতা অনুযায়ী, বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জায়গায় একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিবিসি নেপাল জানিয়েছে, বালেন শাহের এই অভাবনীয় উত্থান নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক মেরুকরণকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

বালেন শাহের এই রাজনৈতিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে, যখন তিনি কোনো বড় দলের সমর্থন ছাড়াই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন।

 একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে তার পেশাদার পরিচয় থাকলেও তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন প্রতিবাদের ভাষা। তার র‍্যাপ গানগুলোতে নেপালের প্রচলিত শাসনব্যবস্থার দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং তরুণদের হতাশার চিত্র সুনিপুণভাবে ফুটে উঠত। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কাঠমান্ডুর নগর উন্নয়নে তার নেওয়া বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে দেয়।

 চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর আঙিনায় পা রাখেন।এবারের নির্বাচনে বালেন শাহ সরাসরি লড়াই করছেন নেপালের বাঘা বাঘা রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল)-এর সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং নেপালি কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা গগন থাপা। 

তবে প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, প্রবীণ এই নেতাদের পেছনে ফেলে বালেন শাহের দল আরএসপি বিপুল জনসমর্থন পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেপালের জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের ভোটাররা প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থা হারিয়ে বালেন শাহকে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তার গানে যেমন জাতীয় পরিচয় ও আত্মমর্যাদার কথা থাকত, রাজনীতির মাঠেও তিনি সেই একই আদর্শ ধারণ করে প্রচারণা চালিয়েছেন।

বালেন শাহের এই জয় কেবল নেপালের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জন্য একটি বড় বার্তা। গত কয়েক দশকের পারিবারিক ও দলতান্ত্রিক রাজনীতিকে পাশ কাটিয়ে একজন স্বতন্ত্র শিল্পী ও পেশাদার মানুষ কীভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন এটি তারই প্রমাণ। তার জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলার দক্ষতা। 

নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছেন তা সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করেছে। যদি শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে হিমালয় কন্যা নেপাল পেতে যাচ্ছে এক আধুনিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রপ্রধানকে। বর্তমানে পুরো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন কাঠমান্ডুর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিকে।