মার্চ ৯, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
দশম দিনে পা রেখেছে ইরান যুদ্ধ। সোমবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সংঘাতের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এই অভিযান জোরদার করেছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সাম্প্রতিক রকেট হামলায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা এই বৃহৎ আকারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। উল্লেখ্য যে, মোজতবা খামেনি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় সন্তান।
পাল্টা জবাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিশানা করে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে যা বিমান হামলার ইঙ্গিত দেয়।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও ইসরায়েলি বিমান হামলা তীব্র হয়েছে। আইডিএফের দাবি, বৈরুতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে তারা কুদস ফোর্সের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করেছে। রয়টার্সের ভিডিও চিত্রে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলো থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে এবং একটি আবাসিক হোটেলে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।উপসাগরীয় দেশগুলোতেও যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে মারাত্মকভাবে। বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগার তথা বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানিতে ভয়াবহ হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া রাজধানী মানামার কাছাকাছি এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং মাত্র দুই মাস বয়সী এক শিশু রয়েছে। বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও কয়েকজনের শরীরে গুরুতর জখম রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরব তাদের বৃহত্তম একটি তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা চারটি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে।
কাতার ও কুয়েতও তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।বিদ্যমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, বর্তমান বাস্তবতায় কোনো প্রকার মধ্যস্থতা বা যুদ্ধবিরতির আলোচনা প্রাসঙ্গিক নয়।
তুরস্ক, সাইপ্রাস বা আজারবাইজানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাঘায়ির মতে, শত্রুপক্ষ বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কিছু হামলার নাটক সাজিয়ে থাকতে পারে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন