মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে কয়েক দফায় হামলা চালানোর দাবি জানিয়েছে ইরান। শনিবার ইরানের নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের এসব কৌশলগত ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক আক্রমণ পরিচালনা করে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ-প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলায় মার্কিন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হলেও ওয়াশিংটন থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী আবুধাবির আল-ধাফরা, কুয়েতের আল-আদিরি এবং বাহরাইনের শেখ ঈসা সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অ্যাডমিরাল তাংসিরি জানিয়েছেন যে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট রাডার ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং বিমানের জ্বালানি মজুত রাখার বিশালাকার ট্যাঙ্কগুলোকে ধ্বংস করাই ছিল তাদের এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই হামলার পর ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও সতর্কতা বিরাজ করছে।আইআরজিসি তাদের এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ড রক্ষার বৈধ অধিকার থেকেই এই পাল্টা আক্রমণ শুরু করা হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে যে দেশটির বিভিন্ন শহরে থাকা মার্কিন গোপন আস্তানাগুলো এখন থেকে ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।
আমিরাতের বন্দর, ডক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের উৎসস্থলগুলোতে যেকোনো সময় ইরান সরাসরি আঘাত হানতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বাসিন্দাদের মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং বন্দর এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে যা বিশ্ব তেলের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন