সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসলাম বিদ্বেষ মোকাবিলায় জাতিসংঘের কঠোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

ইসলাম বিদ্বেষ মোকাবিলায় জাতিসংঘের কঠোর বার্তা

জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্তা

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ইসলাম বিদ্বেষ বা ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার ও সমাজকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলা দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই বিশেষ আহ্বান জানান। 

গুতেরেস বলেন যে বিশ্বের প্রায় দুই বিলিয়ন মুসলিম বিভিন্ন অঞ্চল ও সংস্কৃতি থেকে এলেও তারা প্রায়ই প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, সামাজিক বাধা এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের শিকার হন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে মুসলিম-বিরোধী বক্তব্য ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা এই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতাকে ক্রমাগত ইন্ধন দিচ্ছে।

মহাসচিবের মতে বর্তমানে মুসলমানরা কেবল সামাজিকভাবেই নয় বরং আর্থ-সামাজিক বর্জন, ত্রুটিপূর্ণ অভিবাসন নীতি এবং অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক নজরদারির শিকার হচ্ছেন। 

তিনি ‘হেট স্পিচ’ বা ঘৃণা ছড়ানোর বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে এর ফলে ব্যক্তি বা ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো নিয়মিত হয়রানি ও সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিরসনে তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি করা রোধে কঠোর ভূমিকা রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

গুতেরেস তার বার্তায় আরও উল্লেখ করেন যে প্রতিটি ব্যক্তির সমতা, মানবাধিকার এবং মর্যাদা রক্ষা করা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। তিনি সব দেশ ও সমাজ থেকে ইসলামোফোবিয়ার অভিশাপ নির্মূল করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। উল্লেখ্য যে ২০২২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ১৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে যা মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা ও বৈষম্য নিরসনে বিশ্বজনমত গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।