রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হাদি হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার ফয়সালের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২২, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

হাদি হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার ফয়সালের

আদালত চত্বরে ফয়সাল

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। রোববার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের ১২ দিনের জন্য কারা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। 

এর আগে গত ৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বনগাঁ এলাকা থেকে এই দুজনকে অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স বা এসটিএফ। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে তোলার আগে বিধাননগর পুলিশ অভিযুক্তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়। এ সময় সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা ফয়সাল করিমকে বাংলাদেশে সংঘটিত শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেন। ফয়সাল দাবি করেন যে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না এবং তিনি এই কাজ করেননি। 

তবে সাংবাদিকরা যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে তাঁকে কি ফাঁসানো হয়েছে কি না তখন তিনি সেই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। এদিকে এসটিএফ সূত্রের বরাতে জানা গেছে যে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় ওসমান হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত এবং পুলিশি তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী যে মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালানো হয়েছিল তাতে ফয়সাল ও আলমগীর দুজনেই সওয়ার ছিলেন। হামলার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। 

এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একটি মামলা দায়ের করেন এবং তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন যে হত্যাকাণ্ডের পরপরই ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান। প্রায় তিন মাস আত্মগোপনে থাকার পর তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ খুঁজছিলেন এবং সেই সময়েই বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ধরা পড়েন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন যে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া এই দুই আসামিকে দেশে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২ জন বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়াও তাঁদের পালাতে সহায়তাকারী আরও একজন সেখানে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। এই দুই প্রধান অভিযুক্তকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ। বর্তমানে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় তাঁদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।