রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাকিস্তানে সরকারি গাড়িতে হাই-অকটেন ব্যবহার নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ২৩, ২০২৬, ১০:১২ পিএম

পাকিস্তানে সরকারি গাড়িতে হাই-অকটেন ব্যবহার নিষিদ্ধ

কৃচ্ছ্র সাধনে পাকিস্তান

অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্থিরতা মোকাবিলায় কৃচ্ছ্র সাধনের অংশ হিসেবে সরকারি সব গাড়িতে হাই-অকটেন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পাকিস্তান সরকার। আজ সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই কঠোর নির্দেশ জারি করেন। মূলত ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে সরকারি খরচে উচ্চমানের পরিশোধিত এই জ্বালানি ব্যবহার বন্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বড় অংকের অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) এক বিশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছে যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাড়িতে হাই-অকটেন ব্যবহার করেন তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষেত্রবিশেষে ওই জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিজস্ব পকেট থেকেই পরিশোধ করতে হবে। 

শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় করা পাকিস্তানের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গতকাল রোববার বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত এই বিশেষ জ্বালানির ওপর প্রতি লিটারে সারচার্জ ২০০ রুপি বাড়িয়ে মোট ৩০০ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে গণপরিবহন বা বিমানের জ্বালানির দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

পাকিস্তান সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের প্রতি মাসে প্রায় ৯০০ কোটি রুপি সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর আগেও ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তান বেশ কিছু সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছিল। 

যার মধ্যে ছিল সরকারি কর্মকর্তাদের জ্বালানি ভাতা ৫০ শতাংশ কমানো, চার দিনের কর্মসপ্তাহ প্রবর্তন এবং সরকারি চাকরিজীবীদের অর্ধেক জনবলকে বাসা থেকে কাজ বা হোম অফিসের সুযোগ দেওয়া। তবে জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই সব বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। সরকার মনে করছে এই ব্যবস্থার ফলে ধনী ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপের মাত্রা কিছুটা লাঘব হবে।