মার্চ ২৮, ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই অপরাধের জন্য ইসরায়েলকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত শুক্রবার দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
হামলার শিকার স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি ইউরেনিয়াম উৎপাদনকেন্দ্র এবং একটি ভারী পানির চুল্লি রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ইরানের ইসফাহান প্রদেশের দুটি ইস্পাত কারখানায় ইসরায়েলি বাহিনী বোমা বর্ষণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।
বিবৃতিতে আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেন যে ইসরায়েল এই হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি সমন্বয় করে চালিয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন ইরানে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সময়সীমা বাড়িয়েছিলেন তার সঙ্গে ইসরায়েলের বর্তমান এই অভিযান সরাসরি বিরোধপূর্ণ। এই ধরণের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ইসরায়েলের কাছ থেকে যথোপযুক্ত প্রতিফল আদায় করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ধরণের সরাসরি হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এমন এক সময়ে এই হামলাগুলো ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি বিশেষ শর্ত দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে ইরান যদি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয় তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা কিছুটা দেরিতে পরিচালনা করবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহেও বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা পরিস্থিতিকে এক অনিশ্চিত মহাযুদ্ধের দিকে ধাবিত করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন