সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ দেশের নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ২৮, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ দেশের নাম

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, তেহরানের পক্ষ থেকে চালানো এই বিশেষ অভিযানে ভারত ও পাকিস্তানসহ মোট চারটি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪-এর ৮৩তম ধাপ হিসেবে এই হামলাগুলো পরিচালনা করা হয়। মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বিশেষ বার্তা প্রকাশ করেছে। সেখানে ভারতের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি স্পেন, পাকিস্তান ও জার্মানির জনগণের সমর্থন ও সংহতির জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। 

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই দেশগুলোর জনগণের নৈতিক সমর্থন তাদের এই অভিযানে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে এবং কূটনৈতিক মহলে এর প্রভাব নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে।হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে আইআরজিসি জানিয়েছে, ইসরায়েলের আশদোদ এলাকায় অবস্থিত একটি তেলের ডিপো এবং মোদিইন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

এছাড়া একটি মার্কিন সামরিক তথ্যকেন্দ্রও তাদের মূল লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল। শুধু ইসরায়েল নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এবং কুয়েতের আল-উদেইরি ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোতেও এই দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের তৈরি অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, তাদের হামলায় মাল্টি-ওয়ারহেড প্রযুক্তি এবং আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে যা অধিকাংশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। এই অভিযানের মাধ্যমে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও স্পষ্টভাবে পাওয়া না গেলেও ইরানের এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।