মার্চ ২৮, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। শনিবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার মাধ্যমে এই গোষ্ঠীটি তাদের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল শনিবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর এই প্রথমবারের মতো ইয়েমেন থেকে সরাসরি ইসরায়েল অভিমুখে এমন বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটল।
শনিবার ভোরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করেছে। এই হুমকি মোকাবিলা করতে এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশেই ধ্বংস করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করা হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং যেকোনো মূল্যে তাদের ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখতে বদ্ধপরিকর।এর আগে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী আন্দোলনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের হামলার মাত্রা বাড়াতে থাকে তবে তারা সরাসরি ইরানের সমর্থনে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নানা হুমকি দিয়ে আসলেও ইয়েমেনের পক্ষ থেকে সরাসরি হামলার বিষয়টি এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হলো।রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, হুথিদের এই সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
লোহিত সাগরে আগে থেকেই হুথিদের তৎপরতা থাকলেও সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর বিষয়টি একটি নতুন ও বিপজ্জনক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলার পর ইসরায়েল বা তার মিত্র দেশগুলো পাল্টা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন