সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার হুমকি ইরানের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৯, ২০২৬, ১০:১৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার হুমকি ইরানের

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেকোনো সময় হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বা আইআরজিসি রোববার এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি প্রদান করে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে সম্প্রতি ইরানের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান। 

এরই প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা পশ্চিমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে আইআরজিসি। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চালানো হামলার জন্য যদি আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা না জানায় তবে তারা সরাসরি আক্রমণ শুরু করবে।বিপ্লবী গার্ডের এই হুমকির পর কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়কে এই সতর্কবার্তার আওতায় রাখা হয়েছে। ইরান কর্তৃপক্ষ এসব ক্যাম্পাসের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে মূল ভবন থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন তাদের দাবি পূরণ না করলে হামলার পরিধি শুধুমাত্র দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি হামলা চালানোর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি শেষ সুযোগ দিচ্ছে। যদি মার্কিনিরা ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ বা নিন্দা জানায় তবেই তারা এই আক্রমণ থেকে বিরত থাকতে পারে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন সরাসরি যুদ্ধের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এখন পুরো বিশ্বের নজর রয়েছে।