মার্চ ২৯, ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর একটি সুনির্দিষ্ট বিমান হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। রোববার দক্ষিণ লেবাননে একটি গণমাধ্যম কর্মীবাহী গাড়িকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন আল মানার টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আলি শুয়াইব রয়েছেন।
এছাড়া একই হামলায় ইরানপন্থি ও হিজবুল্লাহ সমর্থিত আল মায়াদিন চ্যানেলের সাংবাদিক ফাতিমা তৌনি এবং তার ভাই মোহাম্মদ তৌনিও প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় লেবানন জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে এই হামলাকে একটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই হামলার সপক্ষে দাবি করেছে যে আলি শুয়াইব সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে মূলত একজন সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করছিলেন।
তাদের দাবি অনুযায়ী তিনি দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য পাচার করার মাধ্যমে সামরিক ঝুঁকি তৈরি করেছিলেন। তবে আল মানার টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ ইসরাইলি এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তাকে প্রতিরোধের প্রতীক ও একজন দক্ষ সংবাদকর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরাইল পক্ষ থেকে আলি শুয়াইবকে নিয়ে কঠোর অবস্থান জানানো হলেও বাকি দুই সাংবাদিক ফাতিমা ও মোহাম্মদ তৌনি সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
আল মায়াদিন টেলিভিশন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নিহত ফাতিমা ও মোহাম্মদ তৌনির পিতাকে আবেগঘন বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। তিনি তাঁর সন্তানদের ত্যাগ নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলেন যে একজন বাবা হিসেবে তিনি আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন। চোখে পানি ও হৃদয়ে গভীর কষ্ট থাকলেও তিনি ভেঙে পড়েননি বলে উল্লেখ করেন। এই হামলার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তারক্ষী সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গণমাধ্যম কর্মীদের এমন মৃত্যু সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের ঝুঁকি ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন