মার্চ ৩১, ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে বিশ্ববাসীকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে মোহাম্মদ সাফা নামের ওই কূটনীতিক সংস্থাটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে জাতিসংঘ বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে যেখানে ইরানে পারমাণবিক হামলার চরম ঝুঁকি রয়েছে।সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি দীর্ঘ পোস্ট এবং পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে তিনি তার এই সাহসী সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন।
মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। উল্লেখ্য যে এই সংস্থাটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদা পেয়ে থাকে।
২০১৬ সালে তাকে জাতিসংঘে সংস্থাটির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়। নিজের পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি জাতিসংঘের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে একটি অত্যন্ত ‘প্রভাবশালী লবির’ নেতিবাচক প্রভাবকে দায়ী করেছেন।তেহরানের একটি জনবহুল এলাকার ছবি যুক্ত করে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ একদমই সচেতন নয়। সাফা দাবি করেন যে জাতিসংঘ পর্দার আড়ালে ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।
যুদ্ধপন্থী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে তেহরান কোনো জনশূন্য মরুভূমি নয় বরং সেখানে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে যদি ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনের মতো জনবহুল শহরে এমন হামলার পরিকল্পনা করা হতো তবে বিশ্ববাসীর প্রতিক্রিয়া কেমন হতো।সাফা জানান যে এই গোপন তথ্যটি বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করার লক্ষ্যেই তিনি নিজের দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছেন। মানবতাবিরোধী কোনো জঘন্য কর্মকাণ্ডের অংশ না হওয়ার জন্য এবং সম্ভাব্য ‘পারমাণবিক শীতকাল’ বা নিউক্লিয়ার উইন্টার থেকে ধরিত্রীকে বাঁচাতে তিনি এই পদক্ষপ নিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ স্লোগানের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।বিগত ২০২৩ সাল থেকেই তিনি পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন বলে জানিয়েছেন। সাফার অভিযোগ যে জাতিসংঘের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চরম অনীহা দেখাচ্ছেন।
বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভিন্নমত পোষণের কারণে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি, সেন্সরশিপ এবং তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। যদিও এই গুরুতর অভিযোগ ও পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে সাফার এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন