বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, বড় হামলার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম

ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, বড় হামলার হুমকি

ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি

ডনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নিজের ব্যক্তিগত প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করে তেহরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

সোমবারের মধ্যে এই কৌশলগত নৌপথটি উন্মুক্ত না করা হলে ইরানকে ‘নরকে বাস করতে হবে’ বলে চরম হুমকি দিয়েছেন তিনি।সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই পোস্টটি মূলত গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে। 

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন পথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইরান যদি তার বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অর্থাৎ সোমবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে ভয়াবহ সামরিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

আগামী মঙ্গলবারকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি আরও সুনির্দিষ্ট ও রহস্যময় রূপ নিয়েছে। তিনি তার পোস্টে দাবি করেছেন যে, মঙ্গলবার ইরানে একই সঙ্গে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’ এবং ‘সেতু দিবস’ পালিত হবে। এর মাধ্যমে তিনি সরাসরি দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার ব্যবহৃত শব্দগুলো এতটাই আক্রমণাত্মক ও শিষ্টাচার বহির্ভূত ছিল যে, সংবাদমাধ্যমগুলো জনস্বার্থে অনেক শব্দই সরাসরি প্রকাশ করতে পারছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি এবং ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সংঘাতকে নতুন এবং আরও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা ট্রাম্প প্রশাসন এই হুমকির মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিতে চাইছে। তবে এই নজিরবিহীন হুঁশিয়ারির পর ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সোমবারের সময়সীমা পার হওয়ার পর মঙ্গলবার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।