শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

এবার ইরানকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিলো সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

এবার ইরানকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিলো সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ইরানের সকল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ এই প্রতিশ্রুতি দেন। 

উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে রিয়াদের এমন অবস্থানকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আমেরিকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 

এছাড়া গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কেও সৌদি পক্ষকে অবহিত করেন তিনি। আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন, ইরান অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও মার্কিন পক্ষের অন্যায্য ও অনড় অবস্থানের কারণে ইসলামাবাদ বৈঠক কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। 

তাঁর দাবি, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার সংকটই শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান অন্তরায়।এর জবাবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আশা প্রকাশ করেন যে, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরব এই অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আঞ্চলিক প্রধান শক্তি হিসেবে সৌদি আরব সরাসরি কোনো পক্ষে অবস্থান না নিলেও তারা চায় আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হোক।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া এই সংঘাতের ৪০ দিনের লড়াইয়ে তেহরান সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিয়েছে। যদিও গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং আলোচনার ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় রিয়াদ ও তেহরানের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ফোনালাপ নতুন কোনো কূটনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কিনা, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা শান্তি চায় তবে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।