রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তেল কেনা নিয়ে ভারতকে দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

তেল কেনা নিয়ে ভারতকে দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

তেল আমদানি নিয়ে চাপে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ভারতের জন্য এক বড় দুঃসংবাদ নিয়ে এল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, ভারত বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান ও রাশিয়া থেকে যে তেল কিনছে, সেই বিশেষ ছাড় বা ‘ওয়েভার’ আর নবায়ন করা হবে না। 

মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার মাঝে নয়াদিল্লি বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো রাশিয়া থেকে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল তেলের বড় একটি অর্ডার দিয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই তেল সরবরাহ ও কেনাবেচার ক্ষেত্রে ভারতকে এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সরাসরি সম্মুখীন হতে হতে পারে।

 বুধবার (১৫ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, "আমরা রাশিয়া ও ইরানের তেলের ক্ষেত্রে সাধারণ লাইসেন্স বা ছাড় আর নবায়ন করব না। গত ১১ মার্চের আগে যে তেল জাহাজে তোলা হয়েছিল, কেবল সেগুলোর ক্ষেত্রেই এই ছাড় কার্যকর ছিল এবং সেই সুযোগ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।"বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) নীতি পুনরায় জোরালো করছে। 

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানির আকাশছোঁয়া মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এই ছাড় দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় ওয়াশিংটন তাদের অবস্থান কঠোর করেছে। উল্লেখ্য যে, রুশ তেলের ক্ষেত্রে দেওয়া ৩০ দিনের বিশেষ লাইসেন্সের মেয়াদ গত ১১ এপ্রিল শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি তেলের ক্ষেত্রে দেওয়া ছাড়ের মেয়াদ আগামী ১৯ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই আগের দেওয়া ছাড়ের সুযোগ ব্যবহার করে ভারত গত কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ রুশ তেল আমদানি করতে পেরেছিল। যদিও জানুয়ারিতে মার্কিন চাপের মুখে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজসহ বড় রিফাইনারিগুলো আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমিয়েছিল, তবে ছাড় পাওয়ার পর তারা আবার রুশ তেলের দিকে ঝুঁকেছিল। এমনকি গত সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানি অপরিশোধিত তেল নিয়ে দুটি সুপারট্যাংকার ভারতের বন্দরে পৌঁছেছিল। ঐতিহাসিকভাবে ভারত ইরানের তেলের বড় ক্রেতা হলেও ২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ওয়াশিংটনের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভারত এখন বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে বড় ধরনের চাপে পড়বে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে চড়া দামে তেল কেনা ছাড়া ভারতের সামনে আর কোনো সহজ পথ থাকবে না। এটি ভারতীয় মুদ্রাস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।