এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে এক বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের শত্রুতা সরিয়ে রেখে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আজ রাত ২১:০০ জিএমটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমান সময়ে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ খবর হিসেবে এটি এখন সবার নজরে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম `ট্রুথ সোশাল`-এ দেওয়া এক পোস্টে এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের আগে তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও চমৎকার আলোচনা করেছেন।
দুই দেশের নেতাই একমত হয়েছেন যে, নিজ নিজ দেশের জনগণের জন্য শান্তি অর্জনের লক্ষে তারা আজ বিকেল ৫টা ইএসটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবেন।
এই শান্তি প্রক্রিয়ার নেপথ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক চেষ্টার প্রতিফলন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসেন। উল্লেখ্য যে, বিগত ৩৪ বছরের ইতিহাসে এটিই ছিল এই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম কোনো সরাসরি বৈঠক। এই ঐতিহাসিক আলোচনা যুদ্ধবিরতির পথকে আরও সুগম করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
ভবিষ্যতে এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করতে ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা ইসরায়েল ও লেবাননের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন যাতে ১০ দিনের এই সাময়িক বিরতি শেষ পর্যন্ত একটি টেকসই শান্তি চুক্তিতে রূপ নিতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন যে, বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংকটের মধ্যে এর আগে ৯টি যুদ্ধের সমাধানে ভূমিকা রাখা তার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল। লেবানন ও ইসরায়েলের এই সমঝোতাকে তিনি তার দশম সাফল্য হিসেবে গণ্য করছেন। যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা এমন এক সময় এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে মুক্তির পথ খুঁজছে। এখন দেখার বিষয়, এই ১০ দিনের বিরতি দীর্ঘমেয়াদি কোনো রাজনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যায় কি না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন