শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি খাতে বড় ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি খাতে বড় ক্ষতি

ইউক্রেনের ধারাবাহিক ও শক্তিশালী দূরপাল্লার ড্রোন হামলার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অভাবনীয় ক্ষতির প্রেক্ষিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

ইউরোপ যদি ইউক্রেনের ড্রোন উৎপাদনে কোনো ধরনের সহায়তা প্রদান করে, তবে তা পুরো ইউরোপজুড়ে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। এমনকি এসব বৈরী পদক্ষেপের ফলে অপ্রত্যাশিত ও ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে বলেও মস্কো সতর্ক করে দিয়েছে।

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ এ বিষয়ে আরও কঠোর ভাষায় কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, যেসব ইউরোপীয় কোম্পানি ইউক্রেনের সঙ্গে যৌথভাবে অস্ত্র বা ড্রোন তৈরি করছে। 

তাদের অবস্থানগুলো রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মূলত ইউক্রেনকে সহায়তাকারী দেশগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতেই মেদভেদেভের এমন মন্তব্য বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। রাশিয়ার এই হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও জার্মানি, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম ইতিমধ্যে ইউক্রেনকে ড্রোন ও সামরিক সহায়তা আরও বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে আসা এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের বিনিয়োগ, যৌথ অস্ত্র উৎপাদন এবং সরাসরি অর্থ সাহায্য। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা এখন ইউক্রেনের নিয়মিত দক্ষতায় পরিণত হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন এখন নিজেদের দেশেই অত্যাধুনিক অস্ত্রশিল্প গড়ে তুলেছে, যা দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের অনেক গভীরে আঘাত হানা সম্ভব হচ্ছে। তিনি এই স্বাবলম্বীতাকে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রধান অস্ত্র হিসেবে দেখছেন।

সাম্প্রতিক সময়ের এই বিধ্বংসী ড্রোন হামলাগুলোতে রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার, বিশাল পাইপলাইন, তেল ডিপো এবং রপ্তানি টার্মিনালগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের ফলে রাশিয়া তাদের তেল রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ হারিয়েছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। জ্বালানি খাতের ওপর এই আঘাত রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে চরম সংকটে ফেলে দিয়েছে। তেল রপ্তানির এই বিশাল আয় হারানোর ফলে মস্কোর সামরিক বাজেট ব্যবস্থাপনায় টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দুই দেশের এই সংঘাত এখন কেবল সীমান্ত লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।